এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা আপৎকালীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। ফলে বিশ্ববাজারে আগস্টে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে। খবর ইউরো নিউজ।
বছরের শুরুতে বড় দরপতনের মুখে পড়ে স্বর্ণ ও রৌপ্য। পরে সেই ধাক্কার সামলে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতু দুটির বাজার। তবে স্বর্ণের তুলনায় রৌপ্যর দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৮ ডলারে উঠেছিল। এরপর দাম কমতে থাকে। জুনের শেষে তা নেমে আসে প্রায় ৩ হাজার ৯৪২ ডলারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।
এরপর স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। আগস্টে দাম বাড়ার গতি আরো বেড়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৯৫ ডলার। এ মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ এবং বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
রৌপ্যের দামের ওঠানামা ছিল আরো বেশি। গত ২৯ জানুয়ারি প্রতি আউন্স রৌপ্যর দাম রেকর্ড ১২১ ডলার ৬৫ সেন্টে উঠেছিল। পরে জুলাইয়ের মাঝামাঝি তা নেমে আসে প্রায় ৫৪ ডলার ৭০ সেন্টে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কমে যায়।
এ মাসে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স রৌপ্যর দাম ছিল ৭০ ডলার ৩২ সেন্ট। চলতি মাসে দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বছরের শুরু থেকে এখনো দরবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র কেনার পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিবার ১০-৩০ বছর মেয়াদি ঋণপত্র কিনতে অন্তত ৪০০ কোটি ডলার খরচ করা হবে। এ ঘোষণার পর পরই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় দুই বছর আগেই ঘটেছে। এতে দেশটির ঋণের বোঝা নিয়ে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঋণ বাড়লে ডলারের ওপর আস্থা কমতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও খুচরা বিক্রির দুর্বল তথ্য এবং মুদ্রাস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতায় সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে গেছ। এতে সরকারি ঋণপত্রের সুদও কমতে পারে। ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগ তহবিলগুলো স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রৌপ্যর দাম আরো বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।